জার্মানিতে চলতি বছরের গ্রীষ্মে রেকর্ড-পর্যায়ের তাপপ্রবাহের কারণে ইতোমধ্যে মৃত্যু হয়েছে নয় হাজার ৮০০ জনের মতো মানুষের। দেশটির রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে। জুন মাসের শেষে কিছু শহরে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে; পাশাপাশি সাপ্তাহিক গড় তাপমাত্রাও বেড়ে হয়েছে ২৬ ডিগ্রি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবীণ নাগরিক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই চরম তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এসব মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা প্রায়শই সরাসরি পরিসংখ্যানে ধরা পরে না; বরং মৃত্যুর সপ্তাহিক হার ও তাপমাত্রার গড় পার্থক্য বিশ্লেষণ করে তা অনুমান করা হয়। গবেষণা বলছে, অধিকাংশ মৃত্যু ঘটে পরোক্ষভাবে— উচ্চ তাপমাত্রার ফলে হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট ও কিডনি সমস্যার মতো বিদ্যমান রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে অধ্যাপক আলেক্সান্দ্রা স্নাইডার জানান, মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান নির্ধারণের পদ্ধতি যথেষ্ট যৌক্তিক এবং চলমান তাপপ্রবাহে মৃত্যু আশঙ্কার পর্যায়েই আছে।

অস্বাভাবিক এই গরম শুধু সাধারণ মানুষকেই নয়, ভোগান্তিতে ফেলেছে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্তদেরও। ব্রান্ডেনবুর্গসহ কয়েকটি অঞ্চলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রকবিহীন হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সে কাজ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, গরমের কারণে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঘটনা আগের চেয়ে অনেক বেশি বাড়ছে এবং এর মারাত্মক পরিণতিও দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অব্যাহত প্রভাব থাকলে সামনের বছরগুলোতে তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।