বেলজিয়ামে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্দেশক মূল্যস্ফীতির হার চলতি বছরের জুলাই মাসে নতুন করে বেড়ে ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটবেল প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এ মাসে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেলজিয়ামে মূল্যস্ফীতি দ্রুত বাড়ে। এপ্রিলে তা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ থেকে বড় লাফে ৪ দশমিক ০১ শতাংশে উঠে যায়। মে মাসে এটি পৌঁছে যায় ৪ দশমিক ০৮ শতাংশে, যা ছিল সর্বোচ্চ। এরপর জুনে কিছুটা কমলেও জুলাইতে আবার বৃদ্ধির দিকেই গেল।

জুলাই মাসের মূল্যস্ফীতি দেশটির ফেডারেল পরিকল্পনা ব্যুরো অনুমিত ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশের চেয়েও বেশি। মূল্যস্ফীতি বাড়ার জন্য বিশেষভাবে দায়ী হয়েছে যাতায়াত, বিনোদন ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে ব্যয় এবং বিদ্যুৎ ও পানিসহ বিভিন্ন সেবার দাম বৃদ্ধি। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ রেখে গণ্য করা কোর ইনফ্লেশনও জুনের ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে জুলাইতে হয়েছে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।

জুনের তুলনায় জুলাইতে উড়োজাহাজের টিকিট, বিদ্যুৎ, ছুটির রিসোর্ট, হোটেল, ডিজেল, মাংস, ব্যাংকিং সেবা ও পরিচ্ছন্নতার পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক গ্যাস ও প্যাকেজ ট্যুরের দাম কমে আংশিকভাবে মূল্যস্ফীতিকে কমাতে ভূমিকা রেখেছে। বার্ষিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে বহিরাগত তথ্য সংরক্ষণ যন্ত্র, প্যাকেজ ট্যুর, জ্বালানি ও ওষুধের; কিছু ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এর পাশাপাশি আবর্জনা সংগ্রহ ও বিনোদন পার্কে প্রবেশমূল্যেও ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। অপরদিকে তাজা ফলমূল, শাকসবজি, পাওয়ার ব্যাংক ও স্মার্টফোনসহ কিছু প্রযুক্তি পণ্যে মূল্যের বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এক বছরের ব্যবধানে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও ওয়াশিং মেশিনের দামও কমেছে।