উড়োজাহাজে দীর্ঘ যাত্রায় আসনগুলোর জায়গা আগের চেয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে—এমন ধারণা যাত্রীদের মধ্যে দিন দিন জোরালো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েক দশকে বিশেষ করে বড় বড় এয়ারলাইন সংস্থাগুলো তাদের উড়োজাহাজে আসন সংকোচন এবং পায়ের জায়গা কমিয়ে দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮০-এর দশক থেকে এ পর্যন্ত বড় এয়ারলাইনের আসনপ্রস্থ গড়ে প্রায় ২ ইঞ্চি এবং হাঁটুর জায়গা দুই থেকে পাঁচ ইঞ্চি পর্যন্ত কমেছে। ফলে যেখানে এক সময় গড় পায়ের জায়গা ছিল ৩৫ ইঞ্চি, সেটি এখন নেমে এসেছে প্রায় ৩১ ইঞ্চিতে।

এ ধরনের পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে ১৯৭৮ সালে বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইন শিল্পে আনা বড় ধরনের নীতিগত সংস্কার। ওই সময় বেসরকারীকরণের ফলে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয় এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়। এর সুফল পেতে প্রধান এয়ারলাইনগুলো বিমানে বেশি আসন বসিয়ে মুনাফা বাড়ানোর পথ বেছে নেয়। একই সময়ে যাত্রীদের গড় ওজনও বেড়েছে, যা আবার আরও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হতে পারে, যেখানে সিনেমা হল ও গাড়ির আসনে সম্প্রতি প্রশস্ততার প্রবণতা দেখা গেলেও, বিমানের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র।

আসনের জায়গা কমে যাওয়া শুধুমাত্র স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে না, এজন্য স্বাস্থ্যগত এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। বিমানযাত্রার সময় দীর্ঘ সময় সংকীর্ণ আসনে বসে থাকলে রক্তে জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি যাত্রী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিমানের কেবিনে হ্যান্ডব্যাগের ভীড় এবং বিভিন্ন ধরনের যাত্রী উপস্থিতির কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে এয়ারলাইন্সগুলোর আসন ও পায়ের জায়গার সর্বনিম্ন পরিমাণ নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘ যাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে অতিরিক্ত পায়ের জায়গার আসন কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে যাত্রা পথে যাত্রীদের মাঝে মাঝে উঠে হাঁটা-চলার কথাও বলেন। অন্যদিকে যাত্রীরা এরই মধ্যে আরও প্রশস্ত ও আরামদায়ক আসনের দাবিতে নীতিমালা সংশোধনের দাবি তুলেছেন।