ইউরোপজুড়ে জন্মহার হ্রাস, বর্ধিত গড়আয়ু এবং কর্মসংস্থানের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে অবসর ব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) প্রকাশিত 'পেনশনস অ্যাট এ গ্লান্স ২০২৫' প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ অবসর গ্রহণের বয়স বাড়ানোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সরকারি অবসর গ্রহণের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ বছর। অন্যদিকে, বুলগেরিয়ায় পুরুষদের জন্য গড় অবসরের বয়স ৬৪ দশমিক ৬ বছর, যা নারীদের ক্ষেত্রে আরও কম।

প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে অবসর নেওয়ার সর্বনিম্ন বয়স আরও বেড়ে যেতে পারে। ডেনমার্কে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য অবসর গ্রহণের বয়স ৭৪-এ উন্নীত হতে পারে, যা ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ। এস্তোনিয়ায় অবসরের বয়স গিয়ে দাঁড়াতে পারে ৭১-এ; ইতালি, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও সাইপ্রাসে এই সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৭০-এ। এদিকে, পুরুষদের মধ্যে সর্বনিম্ন অবসরের বয়স স্লোভেনিয়া ও লুক্সেমবার্গে ৬২ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে পোল্যান্ডে সর্বনিম্ন ৬০ বছর হতে পারে।

তুরস্কেও অবসরের ন্যূনতম বয়স ক্রমান্বয়ে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে নারী ও পুরুষ যথাক্রমে ৪৯ ও ৫২ বছর বয়সে অবসর নেয়; তবে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে এই বয়সসীমা বৃদ্ধি পেয়ে নারীদের ক্ষেত্রে ৬৩ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৫-এ পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ইউরোপে অন্যতম দ্রুত পরিবর্তনের নজির।

ওইসিডি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কেবলমাত্র অবসর গ্রহণের বয়স বৃদ্ধি করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পেনশন তহবিলের আর্থিক স্থায়িত্ব জাতীয় পর্যায়ে টিকিয়ে রাখতে হলে অবসরপ্রাপ্তদের মাসিক ভাতা কমানো কিংবা অবসর তহবিলে জমাকৃত অর্থের হার বাড়ানোর মতো বিকল্প উদ্যোগের কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে।