ইউরোপের পরিবহন অবকাঠামো ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বরাসেলভিত্তিক Vrije Universiteit Brussel-এর অধ্যাপক উইম থিয়েরির নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মহাদেশটির রাস্তা, রেলপথ, বন্দর, বিমানবন্দরসহ অভ্যন্তরীণ নৌপথ আগামী কয়েক দশকে অধিকতর তাপপ্রবাহ, খরা, বনভূমিতে অগ্নিকাণ্ড ও বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার বেশি সম্মুখীন হবে।

গবেষকেরা জানান, এই পরিবর্তনগুলোর পরিণতি অনিশ্চিত ও স্পষ্টভাবে অনুমান করা কঠিন। কেবল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই নয়, পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক বিলম্ব, রুট বন্ধ ও পণ্য ও যাত্রী চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নও দেখা দিতে পারে। এর ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম, জোগান শৃঙ্খলা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত জলবায়ু নীতিগুলো অব্যাহত থাকলে এবং বিশ্ব তাপমাত্রা ২১০০ সালের মধ্যে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে ইউরোপের পরিবহন অবকাঠামো তাপপ্রবাহে ১৯৮০-২০০৯ সময়কালের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পাশাপাশি খরার কারণে শতকের মাঝামাঝি নাগাদ অভ্যন্তরীণ নৌপথেও বড় বিপদের শঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেন, বনভূমিতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে শতকের শেষে সড়ক ও রেলপথে ব্যাঘাত ঘটার ঝুঁকি ২৬ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং কিছু কিছু এলাকায় বন্যার ঝুঁকিও আটগুণ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তাপপ্রবাহ ও অগ্নিদুর্গতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শতকের মাঝামাঝি ইউরোপের পরিবহন নেটওয়ার্কের প্রায় ১৯ শতাংশ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকবে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।